Dailyjanakantha || আগস্ট ০৭, ২০২০

বেঁচে গেল স্কুলটি
অনলাইন রিপোর্টার ॥ দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সমস্যা না হলেও বিপদে পড়েছেন ১০ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। উপায় না পেয়ে উদ্যোক্তারা স্কুল বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন। অনেক কিন্ডারগার্টেন স্কুলও বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার মোড়ে, স্কুলের সামনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব স্কুল বিক্রির নোটিশ ঝুলছে।
ব্যাক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কিন্ডারগার্টেনগুলোর শিক্ষকদের সম্মানী, স্কুলের যাবতীয় খরচ চালানো হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নামমাত্র বেতন নিয়ে।
এদিকে প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কের ফুলকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন তকবির আহমেদ। মোহাম্মদপুর এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পড়াচ্ছিলেন তিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যয়বার বহন করতে না পেরে স্কুলটি বিক্রির ব্যানার টানিয়েছিলেন তিনি।
এই খবরটি নজরে আসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং(বাক্কো) এর সাধারণ সম্পাদক ও ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরুণ উদ্যোগতা তৌহিদ হোসেনের। পরে তিনি স্কুলের পরিচালক তকবির আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্কুলটির ব্যয়ভার গ্রহণ করেন এবং আগামী জানুয়ারী মাস পর্যন্ত সমস্ত খরচ চালানোর কথা জানিয়েছেন। এরপরেও যদি শিক্ষাকার্যক্রম শুরু না হয় প্রয়োজনে আরও বেশী সময় তিনি স্কুলটির ব্যয়ভার নেবেন বলে জানান। সময়মত শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তৌহিদ হোসেন।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তকবির আহমেদ বলেন, আমাদের স্কুরের যে সমস্ত অভিভাবক আছেন তাদের কেউ গার্মেন্টসে চাকরি করেন, কেউ বাসা-বাড়িতে কাজ করেন, কেউ ড্রাইভার। আমি জানি যে কার অবস্থাটা কী। এখন কিভাবে আমি গিয়ে বলি, ভাই আপনার বাচ্চার বেতনটা দেন? আমরা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছি। স্কুলটি আমার সন্তানের মত। করোনার এই সময়ে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা নিজেরাই অনেক কষ্টে আছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছিলাম না। স্কুল ভবনের ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। তাই স্কুলটি বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু এমন সময় ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ হোসেন আমার পাশে দাঁড়ালেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই।
ফুঁলকুড়ি স্কুলের দায়িত্ব নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিপদে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে এটাইতো স্বাভাবিক। তাছাড়া উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে উন্নত করতে পড়ালেখার বিকল্প নেই। আমি চেষ্টা করেছি ১৭ বছরের একটি স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। আজ থেকে ১৭ বছর আগে অনেক সংগ্রাম করে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তকবীর আহমেদ। একটা মানুষের ১৭ বছরের কষ্ট করোনা ভাইরাসের কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে না। তকবীর ভাইকে কথা দিয়েছি, স্কুলটা বন্ধ হবে না।
স্কুলের কার্যক্রম চলার বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, যেহেতু এখানে ছাত্রছাত্রীরা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান, তাদের পক্ষে অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব না। তাই আমরা স্কুলের শিক্ষকরা যেন শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ায় সে ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনার কার্যক্রম চালু হয়েছে। শিক্ষকরা সাপ্তাহিক একদিন বাচ্চাদের বাসায় গিয়ে তাদেরকে পড়ালেখা করায়। শিক্ষকরা সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। এমনকি শিক্ষকদের কাছে আমরা জ্বর মাপার যন্ত্র দিয়েছি যেগুলো দিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর বাড়িতে গেলে সেখানে উপস্থিত সবার তাপমাত্রা মেপে ঘরে ঢুকে।
স্কুলটি বাঁচাতে টেকনো বিডি এর চেয়ারম্যান শাহ্ ইমরাউল কায়ীশ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল্লাহ এইচ কাফিও মানসিক এবং আর্থিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন জানিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তৌহিদ হোসেন।
এছাড়া সমাজের উচ্চবিত্তদের উদ্দেশে তৌহিদ হোসেন বলেন, যাদের আশেপাশে কোনো স্কুল এমন অবস্থায় আছে সে স্কুলগুলোকে বাঁচাতে তারা যেন এগিয়ে আসেন।